• মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ঢাকায় শ্রমিক বিদ্রোহের মুখে

সরকারের অটো-রিকশা উচ্ছেদ সিদ্ধান্ত বাতিল

ঢাকায় শ্রমিক বিদ্রোহের মুখে

সরকারের অটো-রিকশা উচ্ছেদ সিদ্ধান্ত বাতিল

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

গত ১৫ মে ’২৪ যানজট নিরসন, সড়ক দূর্ঘটনা এড়ানো ও ট্রাফিক ব্যবস্থা সহজ করার নামে রাজধানী “ঢাকায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা নিষিদ্ধ” করার গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ১৯ মে ’২৪ অটোরিকশা শ্রমিকেরা মিরপুর ১০, ১১, ১২, টেকনিক্যাল, আগারগাঁও, সরকারি বাঙলা কলেজ, মাটিকাটা, বাড্ডা, ডেমরা, তালতলা, বাসাবো এলাকার বিভিন্ন সড়কে লাঠি নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। শ্রমিকদের জঙ্গী আন্দোলনে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে গণবিচ্ছিন্ন সরকার মাত্র ২ দিনের মাথায় এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য হয়। সিদ্ধান্তটা আেেসে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে। 

প্রায়ই ব্যাটারি চালিত রিকশা উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে সরকার। কারণ হিসেবে বলা হয় ব্যাটারি চালিত রিকশায় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। বিআরটিএ সূত্র থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেল ২২.২৯%,  ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান ১৭.৭২%, বাস/মিনিবাস ১৩.৮২%, অটোরিকশা ৬.৩৬% এবং ৫.৩০% ব্যাটারিচালিত রিকশা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। ২০২৩ সালে যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব মতে সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৭,৬০২ জনের। ২০১৬-২০২৩ সাল এই ৮ বছরে সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৬০ হাজার ৮৭৬ জনের। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসেই ১২৪ জন শিক্ষার্থীর সড়কে মৃত্যু হয়েছে। দেখা যাচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য ব্যাটারি চালিত/অটোরিকশার দায় খুব কম। মোটর সাইকেলে দূর্ঘটনা ঘটে সবচাইতে বেশি। অথচ সরকার মোটর সাইকেল বন্ধের কোনো কথা বলছে না। এক হিসেবে জানা যায়, দেশে প্রায় ৬০ লক্ষাধিক মোটর সাইকেল চলছে।

 সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে দেশে ২০২১ সালে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল এবং রাষ্ট্র মেরামতের দাবি উঠেছিল। তখন পরিবহণে গণবিরোধী ব্যবস্থার বেহাল দশাও উঠে এসেছিল। বাংলাদেশের স্বাভাবিক নৌ-পরিবহণ ব্যবস্থাকে ধ্বংস এবং সড়ক পরিবহণকে প্রধান করার মধ্য দিয়ে গণবিরোধী পরিবহণ ব্যবস্থার ভীত তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া বিআরটিএ’র দুর্নীতি, মালিকদের অতিরিক্ত মুনাফা, ট্রাফিক পুলিশের ঘুস ও অত্যাচার, ড্রাইভারদের সঠিক প্রশিক্ষণ-ব্যবস্থার অভাব, সড়ক-ব্যবস্থার চরম দুরবস্থা, পরিবহণে লিজ-প্রথা, তথাকথিত ‘শ্রমিক নেতা’দের চাঁদাবাজি– ইত্যাদি অনেক কিছুই ভয়াবহ হারে বেড়ে চলা সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। এর দায় সরকার, সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্বয়ং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুর কাদেরের। 

ব্যাটারি রিক্সা কে চালু করেছে? চীন ও অন্যান্য দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাটারি কে আমদানি করেছে? সরকারি নীতি-নির্ধারণ ছাড়া এটা হয়নি। লক্ষ লক্ষ স্বল্প পুঁজির মানুষ এক/দুই/পাচটা করে এ রিকশা কিনেছে। কোটি শ্রমজীবী মানুষ এর চালক ও সংশ্লিষ্ট হয়েছে। তাহলে এখন রিকশা শ্রমিক ও ক্ষুদে মালিকদের বেকার করে কেন সরকার ব্যাটারি চালিত রিকশা উচ্ছেদ করতে চাইছে? পরিবহণ ব্যবস্থায় নিত্য-নতুন নিয়ম চালু করে বড় বুর্জোয়া ও আমলারা শত শত কোটি টাকা লুট করে থাকে। এটাও সে ষড়যন্ত্রেরই অংশ। 

ব্যাটারি চালিত রিকশায় বিদ্যুত খরচ হয়। বিদ্যুতে “ঘরে ঘরে বিদ্যুতে”র চমক-নেত্রী শেখ হাসিনার এখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। চলছে ডলার সংকট। রিজার্ভ ঘাটতি। চরম লুটপাট ও ফ্যাসিবাদী ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য সাম্রাজ্যবাদী-বিদেশি-আমলা-বড় বুর্জোয়াদের স্বার্থে বিবিধ নীতিতে দেশের আর্থিক সংকট গুরুতর হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে তাদের হিমশিম অবস্থাকে ধামাচাপা দেয়ার কৌশলও এখানে কাজ করছে।

সুতরাং উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে সরকার চালাতে চেয়েছে। কিন্তু এবার তারা ব্যর্থ হয়েছে। শ্রমিকদের দুর্বার বিদ্রোহ তাদের ভীত করে ফেলেছে। শ্রমিক ও শ্রমজীবী জনগণকে  চোখে আঙুল দিয়ে এ আন্দোলন দেখিয়েছে যে, সোজা আঙুলে ঘি উঠে না। আন্দোলন ছাড়া শ্রমিক ও জনগণের কোনো অধিকার আদায় করা সম্ভব নয়।

ঢাকায় শ্রমিক বিদ্রোহের মুখে

সরকারের অটো-রিকশা উচ্ছেদ সিদ্ধান্ত বাতিল

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

গত ১৫ মে ’২৪ যানজট নিরসন, সড়ক দূর্ঘটনা এড়ানো ও ট্রাফিক ব্যবস্থা সহজ করার নামে রাজধানী “ঢাকায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা নিষিদ্ধ” করার গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ১৯ মে ’২৪ অটোরিকশা শ্রমিকেরা মিরপুর ১০, ১১, ১২, টেকনিক্যাল, আগারগাঁও, সরকারি বাঙলা কলেজ, মাটিকাটা, বাড্ডা, ডেমরা, তালতলা, বাসাবো এলাকার বিভিন্ন সড়কে লাঠি নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। শ্রমিকদের জঙ্গী আন্দোলনে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে গণবিচ্ছিন্ন সরকার মাত্র ২ দিনের মাথায় এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য হয়। সিদ্ধান্তটা আেেসে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে। 

প্রায়ই ব্যাটারি চালিত রিকশা উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে সরকার। কারণ হিসেবে বলা হয় ব্যাটারি চালিত রিকশায় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। বিআরটিএ সূত্র থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেল ২২.২৯%,  ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান ১৭.৭২%, বাস/মিনিবাস ১৩.৮২%, অটোরিকশা ৬.৩৬% এবং ৫.৩০% ব্যাটারিচালিত রিকশা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। ২০২৩ সালে যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব মতে সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৭,৬০২ জনের। ২০১৬-২০২৩ সাল এই ৮ বছরে সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৬০ হাজার ৮৭৬ জনের। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসেই ১২৪ জন শিক্ষার্থীর সড়কে মৃত্যু হয়েছে। দেখা যাচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য ব্যাটারি চালিত/অটোরিকশার দায় খুব কম। মোটর সাইকেলে দূর্ঘটনা ঘটে সবচাইতে বেশি। অথচ সরকার মোটর সাইকেল বন্ধের কোনো কথা বলছে না। এক হিসেবে জানা যায়, দেশে প্রায় ৬০ লক্ষাধিক মোটর সাইকেল চলছে।

 সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে দেশে ২০২১ সালে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল এবং রাষ্ট্র মেরামতের দাবি উঠেছিল। তখন পরিবহণে গণবিরোধী ব্যবস্থার বেহাল দশাও উঠে এসেছিল। বাংলাদেশের স্বাভাবিক নৌ-পরিবহণ ব্যবস্থাকে ধ্বংস এবং সড়ক পরিবহণকে প্রধান করার মধ্য দিয়ে গণবিরোধী পরিবহণ ব্যবস্থার ভীত তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া বিআরটিএ’র দুর্নীতি, মালিকদের অতিরিক্ত মুনাফা, ট্রাফিক পুলিশের ঘুস ও অত্যাচার, ড্রাইভারদের সঠিক প্রশিক্ষণ-ব্যবস্থার অভাব, সড়ক-ব্যবস্থার চরম দুরবস্থা, পরিবহণে লিজ-প্রথা, তথাকথিত ‘শ্রমিক নেতা’দের চাঁদাবাজি– ইত্যাদি অনেক কিছুই ভয়াবহ হারে বেড়ে চলা সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। এর দায় সরকার, সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্বয়ং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুর কাদেরের। 

ব্যাটারি রিক্সা কে চালু করেছে? চীন ও অন্যান্য দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাটারি কে আমদানি করেছে? সরকারি নীতি-নির্ধারণ ছাড়া এটা হয়নি। লক্ষ লক্ষ স্বল্প পুঁজির মানুষ এক/দুই/পাচটা করে এ রিকশা কিনেছে। কোটি শ্রমজীবী মানুষ এর চালক ও সংশ্লিষ্ট হয়েছে। তাহলে এখন রিকশা শ্রমিক ও ক্ষুদে মালিকদের বেকার করে কেন সরকার ব্যাটারি চালিত রিকশা উচ্ছেদ করতে চাইছে? পরিবহণ ব্যবস্থায় নিত্য-নতুন নিয়ম চালু করে বড় বুর্জোয়া ও আমলারা শত শত কোটি টাকা লুট করে থাকে। এটাও সে ষড়যন্ত্রেরই অংশ। 

ব্যাটারি চালিত রিকশায় বিদ্যুত খরচ হয়। বিদ্যুতে “ঘরে ঘরে বিদ্যুতে”র চমক-নেত্রী শেখ হাসিনার এখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। চলছে ডলার সংকট। রিজার্ভ ঘাটতি। চরম লুটপাট ও ফ্যাসিবাদী ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য সাম্রাজ্যবাদী-বিদেশি-আমলা-বড় বুর্জোয়াদের স্বার্থে বিবিধ নীতিতে দেশের আর্থিক সংকট গুরুতর হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে তাদের হিমশিম অবস্থাকে ধামাচাপা দেয়ার কৌশলও এখানে কাজ করছে।

সুতরাং উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে সরকার চালাতে চেয়েছে। কিন্তু এবার তারা ব্যর্থ হয়েছে। শ্রমিকদের দুর্বার বিদ্রোহ তাদের ভীত করে ফেলেছে। শ্রমিক ও শ্রমজীবী জনগণকে  চোখে আঙুল দিয়ে এ আন্দোলন দেখিয়েছে যে, সোজা আঙুলে ঘি উঠে না। আন্দোলন ছাড়া শ্রমিক ও জনগণের কোনো অধিকার আদায় করা সম্ভব নয়।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র